'সাম' শব্দের অর্থ গান বা সুর। সামবেদকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নৃত্যের আদি উৎস বা জনক বলা হয়।
এই বেদে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, রোগ-ব্যাধি নিরাময়, আয়ুর্বেদ (চিকিৎসা বিজ্ঞান), সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি এবং নেতিবাচক শক্তি থেকে সুরক্ষার উপায় বর্ণনা করা হয়েছে।
এই বেদের উপবেদ হলো "আয়ুর্বেদ", যা প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রের ভিত্তি।
যজুর্বেদ হলো দ্বিতীয় বেদ, যা ঋক্ বেদের পরে রচিত। এটি রচনা করেছেন ঋষি বৃষ্পতি। যজুর্বেদে মোট ১৯৪৫টি মন্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে ১৮টি অধ্যায় রয়েছে। এই বেদে যজ্ঞ, হোম, পূজা এবং আচার-অনুষ্ঠানের বিবরণ রয়েছে। 4 vedas in bengali full
এই বেদে রোগ নিরাময়, আয়ু বৃদ্ধি, সমাজে শান্তি স্থাপন এবং তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপের মন্ত্র রয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
বইয়ের দোকানে বা বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এখন অথবা হার্ডকপি বই হিসেবে সহজেই পাওয়া যায়। সনাতন ধর্মের শিকড়কে জানতে এবং মানব জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে চার বেদের অধ্যয়ন প্রতিটি মানুষের জন্য কল্যাণকর।
বেদের শ্রেণীবিভাগ ও চার বেদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় 4 vedas in bengali full
চার বেদের মধ্যে সর্বশেষ হলো অথর্ববেদ। এটি অন্য তিনটি বেদ থেকে কিছুটা ভিন্ন, কারণ এতে আধ্যাত্মিক বিষয়ের পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধান রয়েছে।
তাঁর সম্পাদিত "বেদ-সংহিতা" বাংলা সাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ।
রোগমুক্তি, দীর্ঘায়ু লাভ, শত্রু দমন, ভেষজ উদ্ভিদের ব্যবহার (আয়ুর্বেদ), গৃহনির্মাণ, রাজনীতি এবং সমাজকল্যাণ। 4 vedas in bengali full
অথর্ববেদে আয়ুর্বেদ (চিকিৎসা), জাদুবিদ্যা, সুরক্ষা, রোগমুক্তি, রাজনীতি, এবং বিবাহ-গৃহস্থালির বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
অথর্ববেদ ২০টি কাণ্ডে (অধ্যায়) বিভক্ত। এতে ৭৩১টি সূক্ত এবং প্রায় ৫,৯৭৭টি মন্ত্র রয়েছে।
ঋগ্বেদে ১০টি মণ্ডল (অধ্যায়) এবং ১০২৮টি সূক্ত রয়েছে। এতে মোট মন্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১০,৫৮৯টি।
চারটি বেদ হিন্দুধর্মের মূল শিক্ষা এবং দর্শনের উৎস। এই গ্রন্থগুলিতে বর্ণিত শিক্ষা এবং দর্শন হিন্দুধর্মের ভিত্তি তৈরি করে।